আলোময়.কম হোম,ইসলাম ও বিজ্ঞান, ফিডব্যাক,অংশ নিন fb page

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

মহাবিশ্বের সুনিপুণ ও নিখুঁত ভারসাম্য

মহাবিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন তারকা ও ছায়াপথ তাদের  নির্ধারিত গতিপথে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে চলাচল করে চলছে। তারকা, গ্রহ ও উপগ্রহরা শুধু নিজেদের কক্ষপথের চারদিকে আবর্তন করে না, তারা যে মহাজাগতিক বস্তুর সাথে সংযুক্ত তার সাথেও চলাচল করে। কখনো কখনো ২০০-৩০০ বিলিয়ন তারকাধারী ছায়াপথ বা গ্যালাক্সীরা একে অপরের গতিপথ অতিক্রম করে যায়। এরপরেও, অবিশ্বাস্যভাবে কোন বৃহৎ সংঘর্ষ ঘটে না যার ফলে এ শৃঙ্খলা  বিনষ্ট হবে।

পৃথিবীর তুলনায় মহাবিশ্বের বেগের হিসাব দৈত্যাকার। তারকা, গ্রহ, ছায়াপথ ও ছায়াপথ-পুণ্জসমূহের ভর বিলিয়ন এমনকি ট্রিলিয়ন টন দিয়ে হিসাব করতে হয়। আর তাদের বেগও মাত্রাতিরিক্ত।

উদাহরণস্বরূপ, পৃথিবী ঘন্টায় ১৬৭০ কি.মি. বেগে আবর্তন করে। যদি আমরা মাথায় রাখি যে বর্তমানে দ্রুততম বুলেট ঘন্টায় ১৮০০ কি.মি. যায় তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশাল এবং আকার নিয়েও পৃথিবী কত দ্রুত চলছে।

পৃথিবী যে বেগে সূর্যকে পরিক্রমণ করে তা বুলেটের বেগের ৬০ গুণ- ঘন্টায় ১০৮০০০ কি.মি.। এই বেগসম্পন্ন কোন যান তৈরি করা গেলে সেটি পৃথিবীর পরিধি ২২ মিনিটে একবার চক্কর দিয়ে ফেলত। এই হিসাব হলো পৃথিবীর।

সৌরজগতের ব্যাপারটা আরো মজাদার। এর গতির প্রাচুর্য বোধগম্যতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে চায়। যে মন্ডল যত বড় তার গতিবেগও তত বেশি। সৌরজগৎ ছায়াপথের কেন্দ্রের চারদিকে ৭২০, ০০০০ কি.মি/ঘন্টা বেগে পরিক্রমণ করে।  আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে ৯৫০, ০০০ কি.মি./ঘন্টা বেগে মহাশূণ্যের ভেতর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে।

নি:সন্দেহে, এমন একটি জটিল এবং দ্রুতগামী ব্যাবস্থাপনায় সংঘর্ষের ঝুঁকি খুবই বেশি। তবুও তেমন কিছু ঘটছে না এবং আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদেই আছি।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন