আলোময়.কম হোম,ইসলাম ও বিজ্ঞান, ফিডব্যাক,অংশ নিন fb page

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩

পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হবার কারণ


আমরা যখন কোন বস্তুকে উপরে ছুড়ে মারি, পৃথিবীর আকর্ষণে এটি নিচে নেমে আসে। তীর্যভাবে নিক্ষিপ্ত কোন বস্তু একটি নির্দিষ্ট পাল্লা অতিক্রম করে ভূমিতে ফিরে আসে আর পথটি হয় উপবৃত্তাকার। নিক্ষপণ বেগ যত বেশি হবে পাল্লাও তত বেশি হবে। প্রতি সেকেন্ডে ৭৯০০ মিটার বেগে তীর্যকভাবে নিক্ষিপ্ত বস্তু আর পৃথিবীতে থুক্কু ভূমিতে ফিরে আসবে না। এটি হয়ে যাবে কৃত্রিম উপগ্রহ মানে পৃথিবীকে আবর্তন করতে থাকবে। খাড়াভাবে কোন বস্তুকে উপরের দিকে সেকেন্ডে ১১.২ কি.মি. বেগে নিক্ষেপ করলে সেটি  পৃথিবীর মায়া ছেড়ে মহাশূন্যে নিরুদ্দেশ যাত্রো করবে। এই বেগকে মুক্তি বেগ বলে।
এখন তাহলে, পৃথিবীকও কোনভাবে তীর্যকভাবে সূর্য থেকে নিক্ষপ্ত হয়েছিল।
বেশিরভাগ বিজ্ঞানীর মতে,  সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছে একটি বিশাল সোলার ডিস্ক থেকে যার অবস্থান ছিল বর্তমান সৌর জগতের জায়গায়। এই সোলার ডিস্কে বর্তমান সৌর জগতের সব উপাদান ছিল। ডিস্কটি তীব্র গতিতে পাক খাচ্ছিল। একটা সময়ে ডিস্ক থেকে বেশ কিছু খন্ড (অবশ্যই বিশাল বিশাল) বেরিয়ে গেল। খন্ডগুলো সোলার ডিস্কের কেন্দ্র থেকে দূরে সরে গেল। এরকম হয়ে ডিস্কে যা রয়ে গেল তাই হলো এখনকার সূর্য আর খন্ডগুলো বিভিন্ন গ্রহ। খন্ডগুলো ডিস্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল তীব্র গতিতে। কিন্তু সূর্যের মহাকর্ষী বল তাদের সবাইকে চলে যাবার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু কিছু খন্ড এত শক্তিশালীভাবে বের হয়ে গিয়েছিল যে সূর্য তাদেরকে নিজের মহাকর্ষ ক্ষেত্রে ধরে রাখতে পারেনি। বাকীরা উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে পরিক্রমণ শুরু করে গ্রহে পরিণত হয়।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন