আলোময়.কম হোম,ইসলাম ও বিজ্ঞান, ফিডব্যাক,অংশ নিন fb page

সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

পৃথিবীর বাইরে জীবন: মহাবিশ্বে কি শুধু মানুষেরই বসবাস???

১.প্রাক-কথা: 


বিশাল এ মহাবিশ্ব

অনেক বিশিষ্ট বিজ্ঞানিসহ পৃথিবীর মানুষের মধ্যে বৃহত্তর অংশই পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্তে বিশ্বাস করে। জরিপে দেখা যায় চীনে এ বিশ্বাস সবচেয়ে বেশী-৪০%। সব মিলিয়ে বিশ্বাস পুরুষের ২২% আর নারীতে ১৭%। বৈজ্ঞানিক তত্তকথা, সাধারণ জ্ঞান ও ধর্মীয় গ্রন্থরাজি থেকে ধারণা নিয়ে এর পক্ষে- বিপক্ষে প্রচুর মত রয়েছে।
এলিয়েন বা পৃথীবির বাইরের জীব বিষয়ক গবেষণা ও স্টাডিকে বলা হয় exobiology অথবা astrobiology( এ শব্দটি পৃথিবীর ক্ষেত্রেও প্রচলিত)।

২.থাকার সম্ভাবনা যে কারণে: ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস এরিষ্টটলের বিপক্ষে গিয়ে বলেন পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয় বরং সূর্য়্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান সাধারণ একটি গ্রহ। হাবলের টেলিস্কোপ প্রথমবারের মত মহাবিশ্বের বিশাল পরিধি মানুষের সামনে নিয়ে আসে। জানা গেল মহাবিশ্বে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি বা তারকামণ্ডল।

আমাদের গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র যার মধ্যে আমাদের সূর্য্যও একটি।
এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্য্যের মত রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র। তাদের কোনটিতে আমাদের সৌরব্যবস্থার মত ব্যাবস্থা থাকতেই পারে।


আমাদের তারকামণ্ডল (মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা)

মহবিশ্ব অনেক বড় হবার কারণেই স্টিফেন হকিং এবং কার্ল সেগান এর মতে প্রথিবীর বাইরে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাটাও বেশী।
অণুজীবরা যদি পৃথিবীর অভ্যন্তরেই পাথরের ছোট ছোট ছিদ্রে থাকতে পারে তাহলে পৃথিবীর বাইরেও এরকম স্থানে থাকতেই পারে।
অনেকে প্রথিবীর বাইরে প্রাণের প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যাওয়া UFO(=Un-identified Flying Object=অচেনা উড়ন্ত বস্তু) ’র কথা বলেন। তবে বেশিরভাগ UFO কেই পৃথিবীসৃষ্ট আকাশযান অথবা কোন মহাজাগতিক বস্তু বা দেখার ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

৩.১আমাদের সৈৗরজগতে থাকার সম্ভাবনা:

আমাদের সৌরজগত

আমাদের সৌরজগতে এ সম্ভাবনার দৌড়ে এগিয়ে আছে শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা, শনির উপগ্রহসমূহ যেমন টাইটান ও Enceladus ।

মঙ্গল গ্রহের সম্ভাবনা:


মঙ্গল গ্রহ

মঙ্গল গ্রহ আমাদের্ সৌরজগতে অবস্থানের কারণে এতে প্রণের অস্তিত্ত থাকতে পারে বলে অনেক বিজ্ঞানীর দৃঢ়বিশ্বাস। মনে করা হয় একসময় মঙ্গলের বুকে তরল পানি প্রবাহিত হত, ফলে এখনো এর অভ্যন্তরভাগে পানি থাকতে পারে। এছাড়া এর আবহাওয়ায় মিথেন গ্যাস পাওয়া গেছে।
২০০৮ সালের জুলাইয়ে ফিনিক্স মার্স ল্যান্ডার প্রমাণ করে মঙ্গলের মাটির নমুনায় পানির অস্তিত্ত বিদ্যমান। যন্ত্রটির রোবটিক হাতে সংগৃহীত মাটির নমুনায় তাপ দিয়ে প্রাপ্ত বাষ্পে পানিকণা পাওয়া যায়।
ম্যাক্স গ্লোবাল সার্ভেয়ার থেকে পাঠানো রিপোর্টে প্রমাণ পাওয়া যায় গত ১০ বছরের মধ্যে মঙ্গলে পানি প্রবাহিত হয়েছে। তবে প্রাণ আছে কিনা এ ব্যাপারে এখনও শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

শনির উপগ্রহ টাইটান:


শনির উপগ্রহসমূহ

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটান। নাসার বিজ্ঞানীরা ক্যাসিনীর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বলেন একমাত্র টাইটান্ প্রাণধারণের উপযোগী এবং সেখানে জীবনের উৎপত্তিও হয়েছে।
ইকারাস সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবণ্ধে বলা হয় টাইটানের হাইড্রোজেন গ্যাস গ্রহপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে হারিয়ে যাচ্ছে, এ থেকে প্রমাণ হয় যে প্রণীরা শ্বাস নিচ্ছে এবং তারা সম্ভবত অক্সিজেনের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্রহণ করছে।

তবে চলতি বছরের (২০১১) মে মাসে বিজ্ঞানীরা বলেন, ’আমাদের জানামতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ত থাকার ব্যাপারে শনির উপগ্রহ Enceladus সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল।’

৩.২.সৌরজগতের বাইরের সম্ভাবনা:


মিল্কিওয়ে (আমদের ছায়াপথ) ছাড়াও মহাবিশ্বে আরো শতকোটি তারকামণ্ডল বা ছায়াপথ আবিষ্কৃত হয়েছে। সেসব তারকামণ্ডল বা নক্ষত্রমণ্ডলেও পৃথিবীসদৃশ গ্রহ আছে। আমাদের নিকটতম ছায়াপথ অ্যান্ড্রোমিডা ২০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।হাবল টেলিস্কোপের আল্ট্রা ডিপ ক্যামেরার সাহায্যে ৩০ কোটি আলোকবর্ষের চেয়েও বেশি দূরত্বের আলোকবর্ষও পর্যক্ষেণ করা গেছে। অ্যান্ড্রোমিডায় সূর্য্যের মত কোন নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহ বা উপগ্রহ থাকতে পারে যা আমাদের পৃথিবীর মত বাসযোগ্য হতে পারে।
এছাড়া এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্য্যের মত অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। বসবাসোপযোগী নক্ষত্র থাকতে হলে তাকে নিজস্ব ছায়াপথের বাইরের দিকে থাকতে হবে এবং তার নিজস্ব গতি তার ছায়াপথের আবর্তনের সাথে সর্ম্পকযুক্ত হতে হবে। তবে গামা ও মহাজাগতিক রশ্মির আধিক্য থাকলে তা প্রাণের অস্তিত্তের পথে বাধা হবে। আবার তার গতি নিজস্ব ছায়াপথের আবর্তনের সাথে অসংগতিপূর্ণ হলে তার গ্রহব্যবস্থা কয়েক মিলিয়ন বছরেই মিলিয়ে যাবে।

তবে পানি থাকার সম্ভাবনার কারণে সম্প্রতি আবিষ্কৃত প্রায় পৃথিবীর ভরের সমান গ্রহ গ্লিস ৫৮১ সি, জি এবং ডি এক্ষেত্রে সম্ভাবনাময়ী।

৪.পরোক্ষ প্রমাণ:
আর্জেন্টিনার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাগরপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটার (১৫হাজার ৪০০ ফুট) উপরে লেক ডায়মান্ট নামক হ্রদে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এ আবিষ্কার থেকে ভিনগ্রহে প্রাণের ব্যাপারে সূত্র পাওয়া যেতে পারে।কেননা হ্রদটির কাছেই রয়েছে মাইপো আগ্নেয়গিরি। এখানে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের প্রকট অভাবেও বেঁচে আছে। এর আগে বিরুপ পারবেশে টিকে থাকা ‘এক্সট্রিমোফিলস’ নামক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু ’পলিএক্সট্রিমোফিলস’ নামক ব্যাকটেরিয়া চরম বৈরি পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম। ওই হ্রদে আর্সেনিকের নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ২০ হাজার গুণ বেশি মাত্রা রয়েছে। তাপমাত্রা প্রায়ই শূণ্যের নিচে নামে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণক্ততার কারণে বরফ জমাট বাঁধেনা।
এ আবিষ্কার নিঃসন্দেহে ভিনগ্রহের বৈরি পরিবেশেও প্রাণের অস্তিত্তের পক্ষে রায় দেয়।

৫.অভিযান-অনুসন্ধান:

ভিনগ্রহের প্রাণের খোঁজে অনুসন্ধান চলতে থাকলেও স্টিফেন হকিং বলছেন ভিনগ্রহে প্রাণীর খোঁজ পেলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা ঠিক হবেনা । যা হোক এ সতর্কবাণীতো আর মানুষের কৌতূহল দমাতে পারবেনা।
USSR এর কৃত্রিম উপগ্রহ স্ফুটনিকের মাধ্যমে মহাশূন্যে অভিযান শুরু।
গবেষকরা ভিনগ্রহের প্রাণের খোঁজ করছেন পৃথিবীতে বসেই পুরানো নথিপত্র ঘেঁটে। হয়তো অতীতে্ এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছিল আর তখনকার মানুষ তা দেখে নথিভুক্ত করে রেখেছে। এরিক ভন দানিকেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, দেয়ালচিত্র ও দেয়াল-লিখনে খুঁজে দেখেছেন এলিয়েনদের বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল। তবে অনেকেই এ দলিলগুলোকে প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ।

পৃথিবীর বাইরে খোঁজার জন্য ফ্রাংক ড্রেক ১৯৬০ সালে SETI(search for extra-terrestial intelligence) প্রতিষ্ঠা করেন। এটা পৃথিবীতে বসেই বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে এলিয়েন অনুসন্ধান করে। ১০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলছে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞানী ড্রেক একটি সমীকরণ দেন দেন যা অবশ্য বিজ্ঞানী ফার্মির মতে নিছক হেঁয়ালি।
চিলির আতাকামা মরুভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম টেলিস্কোপ যার ব্যাস হবে প্রায় ৪২ মিটার।



সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একটি বিশাল টেলিস্কোপ বসানো হয়েছে যা পৃথিবীর মত সম্ভাব্য ৮৬টি গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ত খুঁজবে। SETI প্রকল্প বাজেট ঘাটতির কারণে বন্ধ হবার উপক্রম হলে ২০০৭ সালে SETI এর প্রকল্পের অংশ ATA, ইউসি বার্কলে রেডিও অ্যস্ট্রোনমি ল্যাবের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করে।
তদুপরি নাসার (NASA=National Aeronautics and Space Administration) বহুমুখি কার্যক্রমতো চলছেই।

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধূমকেতু, গ্রহাণূ, উল্কা ও উল্কাপিণ্ডদের কথা

এই মজাগতিক বস্তুদের পরিচয়, ধরণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের অনেক সময় তৈরি হয় বিভ্রম। এ বিভ্রমের অবসান করতে এই পোস্ট।
ধূমকেতু (Comet) :
ধূমকেতু হলো বরফ, ধুলো ও গ্যাসের তৈরি এবং বরফাচ্ছাদিত একটি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তু। সূর্যের খুব নিকট দিয়ে যাবার সময় এটার নিউক্লিয়াসের উপর সূর্যের বিকিরণ ও সৌরবায়ূর কারনে এটার বায়ূমণ্ডল ও এবং কখনো লেজও দেখা যাবার কারণে এটা দৃশ্যমান হয়। একটি ধূমকেতুর পর্যায়কাল কয়েক বছর থেকে শুরু করে কয়েকশ’ হাজার বছর পর্যন্ত হতে পারে। ধূমকেতুকে উল্কা বা গ্রহাণূ থেকে পৃথক করে চেনা যায় এর নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকা প্রসারিত হায়ূমণ্ডলের কারণে। ধূমকেতুর প্রধান  অংশগুলো হল নিউক্লিয়াস,  কোমা যা নিউক্লিয়াসের পরপরই কেন্দ্রীয় বায়ুমণ্ডলকে ঘিরে থাকে ও লেজ যা অপেক্ষাকৃত রৈখিক। হ্যালির ধূমকেতু সহ বেশ কিছু ধূমকেতু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই স্থানে ফিরে আসে।



গ্রহাণূ (Asteroid)ঃ এরা হলো সূর্যের কাছাকাছি অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ। যদিও সৌরজগতের বাইরেও এদের উপস্থিতি চোখে পড়ে, তাদের সাথে ধূমকেতুর মিল থাকায় বর্তমানে গ্রহানূ বলতে শুধু সৌরজগতের বস্তুকে বেশি বোঝানো হয়। বেশিরভাগ গ্রহাণুই মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত
উল্কা (Meteor): পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে উত্তপ্ত ও দীপ্তমান উল্কাপিণ্ডের পতনের সময় তা থেকে নিঃসৃত আলোকরেখাকে উল্কা বলে।  অর্থ্যাৎ এটা হলো জাস্ট একটি দ্যুতি যা পড়ন্ত উল্কা থেকে বের হয়। একে প্রচলিত ভাষায় পড়ন্ত তারা (Falling Star) বা Shooting Star ও বলে।
উল্কাপিণ্ড ( Meteorite): উল্কাপিণ্ড হল গ্রহাণূ, ধূমকেতু ইত্যাদি থেকে বেরিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষ যা মহাশুণ্যে উৎপন্ন হয়ে পৃথিবীতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। পৃথিবীতে পৌঁছানোর পূর্বে একে Meteoroid বলে। এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষণ, চাপ এবং বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের সাথে রাসায়নিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয় এবং শক্তি বিকিরণ করে জ্বলে উঠে। তখনই এর নাম হয় উল্কা।
তাহলে, We can sum up,  যে বস্তুটি ধেয়ে আসে সেটি হল Meteoroid, যখন এটি জ্বলতে থাকে, নাম হয় উল্কা, আর পৃথিবীতে পৌঁছে গেলে এর নাম হয় Meteorite বা উল্কাপিণ্ড।

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

কীভাবে বিমান উত্তোলিত হয় বা ভূমি থেকে আকাশে উঠে?

বিমানের উড্ডয়ন কৌশল খুবই সরল। বাতাসের অনুপস্থিতে এটা সম্ভব নয়। যে কোনো কিছুর অবস্থানের জন্যে অবলম্বন প্রয়োজন। আর বিমানের ক্ষেত্রে সেই অবলম্বন হলো বাতাস। মহাকাশ যানের ব্যাপার ভিন্ন। তাদেরকে পুশ করে নিক্ষিপ্ত করা হয় বিমান উড্ডয়নের মত নয়।
বিমানকে উত্তোলন করে এর এরোফয়েল আকৃতির ডানা। চিত্রে এরোফয়েলের উপরে ও নিচে বায়ুপ্রবাহের পথ দেখানো হয়েছে।
জেট ইঞ্জিন ধাক্কা উৎপন্ন করে এবয় তীব্র গতিতে বিমানকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়। উত্তোলনের জন্যে এই উচ্চ গতি প্রয়োজন। ডানার এমন আকৃতির কারণে এর উপরে বায়ুপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। বাতাস আকস্মিকভাবে নিচে নেমে আসায় এর বেগ বাড়ে এবং ঐ অঞ্চলের চাপ হ্রাস পায়। এখন ডানার উপরে নিচের তুলনায় চাপ কমে। চাপের এই তারতম্য ডানাকে এবং ফলস্বরূপ বিমানকে উঠিয়ে ফেলে।


পানির ফোটা কেন গোলাকার হয়

আমরা দেখি বৃষ্টির ফোটারা হয় গোলাকার। কোন সমতল পৃষ্ঠে বিচ্ছিন্নভাবে জমে থাকে ফোটা ফোটা পানির আকৃতি হয় গোলাকার। সহজভাবে এটাকে ‘যে কোনো কিছু সবচেয়ে কম ক্ষেত্রফল রচনা করে থাকতে চায়’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়। যেহেতু কোন তরলকে গোলাকার পাত্রে রাখলে সবচেয়ে কম জায়গা দখল করবে।  কিন্তু এটুকু কোন কৌতূহলী মনকে শান্ত করে না। প্রশ্ন আসে তরল পদার্থ কম ক্ষেত্রফল রচনা করতে চায় কেন? (মনে হচ্ছে তরলের বুদ্ধি আছে তাই সে বুদ্ধি করে কম জায়গা কিনতে চায়!!)

এর মৌলিক কারণ হচ্ছে তরলের (আমাদের আলোচনায় পানির) পৃষ্ঠটান (Surface tension)। পৃষ্ঠ টান হলো কোন তরল পদার্থের অণুসমূহের পারস্পরিক আকর্ষণী বলের কারণে (এটা দুটো বস্তুর মহাকর্ষী বল অবশ্যই নয়, বরং সবল নিউক্লিয় বল) সংকুচিত হবার প্রবণতা। আর যে বলের কারণে এই আকর্ষণের উদ্ভব ঘটে তাকে পদার্থবিদ্যার ভাষায় সংসক্তি বল (Cohesive force/Cohesive attraction/Cohesion) বলে। অর্থ্যাৎ সংসক্তি বল হলো পারস্পরিক আকর্ষণের কারণে অণূসমূহের কাছাকাছি লেগে থাকার ধর্ম। পানি সংসক্তির বলের ধর্ম খুব তীব্রভাবে মেনে চলে, কারণ পানির প্রতিটি অণূ অন্য অণুগুলোর সাথে চারটি হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করে।  
বিপুল পরিমাণ পানিতে প্রতিটি অণু চারপাশের অন্য অনুগুলো দ্বারা সমানভাবে টানের মুখোমুখি হয়। এতে ভেতরের দিকে নেট বল শূন্য হয়। কিন্তু পৃষ্ঠে অবস্থিত অণুগুলোর ক্ষেত্রে সব দিকে অণু নেই (উপরের দিকে নেই) । ফলে, এরা শুধুই ভেতরের দিকে টান অনুভব করে।ফলে, আকৃতি বাধ্য হয়ে গোলাকাকার হয়।

বৃষ্টির ফোটার ক্ষেত্রে যেহেতু সব তলই বাইরের দিকে টানহীন তাই ভেতরের অণুর আকর্ষণে তারা গোলাকার হয়। অবশ্য অভিকর্ষ তাদেরকে নিঁখুত গোলক হতে বাধা দেয়।
অভিকর্ষসহ অন্যান্য বলের অনুপস্থিতিতে  সব তরলের ফোটাই গোলাকাকার হবে।

সূর্যে হাইড্রোজেন-হিলিয়াম চক্র কীভাবে ঘটে


আমরা সূর্যের যে আলো ও তাপ পাই তা হলো সূর্যে সংঘটিত নিউক্লিয়ার সংযোজন বিক্রিয়ার ফলে নির্গত রূপান্তরিত আলোক ও তাপ শক্তি। এ আলো ও তাপ সরবরাহ করতে প্রতিনিয়ত সূর্য হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়ার সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে হিলিয়াম উৎপন্ন করে চলছে। আর এ বিক্রিয়া থেকে নির্গত হয় আলো ও তাপ। প্রশ্ন উঠতে পারে এত হাইড্রোজেন কোথা থেকে আসে বা হাইড্রোজেন ফুরিয়ে যায় না কেন? চক্রটির প্রক্রিয়া বুঝলেই আমরা ব্যাপারটি ধরতে পারব। তবে, হ্যাঁ আগেই বলে রাখি, হাইড্রোজেন সত্যিই একসময় ফুরিয়ে যাবে।
সূর্যে হাইড্রোজেন চক্র নামে বেশ অনেকগুলো নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ঘটে।
প্রথমে, দু’টি প্রোটন একে অপরকে ধাক্কা দিলে একটি প্রোটন থেকে একটি নিউট্রন একটি পজিট্রন কণিকা তৈরি হয়। প্রোটনটি ও নিউট্রন মিলিত হয়ে ডিউটেরিয়াম (হাইড্রোজেন এর স্থিতিশীল আইসোটোপ) নিউক্লিয়াস তৈরি করে। এটাই মূলত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া।
এবার আরেকটি প্রোটন ডিউটেরিয়াম নিউক্লিয়াসকে ধাক্কা দেয়। তাহলে, এবার নিউক্লিয়াসে দু’টি প্রোটন ও একটি নিউট্রন আছে। এটা হলো হিলিয়াম-৩ নিউক্লিয়াস।
এবারে, দু’টি হিলিয়াম-৩ নিউক্লিয়াস একে অপরের সাথে মিলিত হয়। দু’টি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন মিলিত হয়ে হিলিয়াম-৪ এর নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। অন্য দু’টি প্রোটন অবশিষ্ট থেকে অন্য বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।
অর্থ্যাৎ, যা দাঁড়াল, ৬ টি প্রোটন থেকে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (যাতে দুটি প্রোটন ও নিউট্রন আছে),  দুইটি পজিট্রন ও দুইটি প্রোটন উৎপন্ন হলো।
এ দু’টি প্রোটনই আবার বিক্রিয়াটি শুরু করে ফলে চক্রটি অবিরত চলতে থাকে।এই প্রক্রিয়াটি প্রযোজ্য সূর্যের জন্য। অন্যান্য তারকার ক্ষেত্রে (মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় যদিও সূর্য নিজেও একটি তারকা) কার্বন চক্র নামে পর্যাক্রমিক চক্রীয় বিক্রিয়া চলতে থাকে।
সূর্যের ক্ষেত্রে এভাবে অবশ্যি একসময় হাইড্রোজেন জ্বালানী শেষ হয়ে যাবে। তখন সূর্য নাক্ষত্রিক বিকাশের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে।
http://answers.yahoo.com/question/index?qid=20070418050746AA2oWeN

টর্নেডো সম্পর্কে কিছু তথ্য

টর্নোডো হয় যেভাবেঃ
ভুমি থেকে উষ্ণ বায়ু উপরের দিকে উঠে গিয়ে ঠান্ডা বায়ুর সাথে মিলিত হয়। এতে করে উষ্ণ বায়ু ঠান্ডা হয়ে যায়। আর এর ফলে জলীয় কণা তৈরি হয়। তৈরি হয় বজ্রমেঘ (Thundercloud) যা আরো উপরে উঠতে থাকে। বিভিন্ন স্তরের বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি এর স্বাতন্ত্র্য ফানেলাকৃতি ধারণ করে।
টর্নেডো সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
১. টর্নেডো উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাটাঁর দিকেএবং উত্তর গোলার্ধে  বিপরীত দিকে ঘোরে।
২. টর্নেডো বছরের যে কোনো সময় ঘটতে পারে, তবে মে মাসে বেশি ঘটে।
৩. টর্নেডোর নিদিষ্টি কোন সাইজ নেই। তাদের আকার যে কোনো রকম হতে পারে।
৪. টর্নেডোর বেগ ঘন্টায় ৪০ মাইল থেকে ১১০ মাইল পর্যন্ত রেকর্ডে আছে। তারা অনেক পথ অতিক্রম করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।
৫. টর্নেডোর রঙ নির্ভর করে পরিবেশ ও সূর্যের আলোর উপস্থিতির উপর। শুষ্ক পরিবেশে টর্নেডো কিছুটা অদৃশ্য আর সূর্য যদি টর্নেডোর পেছনে থাকে তাহলে দর্শকের চোখে একে কালো মনে হবে।
৬. তাদের গতিপথ যে কোনো দিকে হতে পারে। তবে, সাধারণত, দক্ষিণ থেকে উত্তরে যায়।
৭. এন্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেরশেই টর্নেডোর উৎপাত আছে।
৮. আমেরিকায়  প্রতি বছর প্রায় ১২০০ টর্নেডো রেকর্ড হয়।
৯. টর্নেডোর ফলে বৃষ্টি, তুষারপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়।
সূত্রঃ ১.
২. http://www.diffen.com/difference/Cyclone_vs_Tornado

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩

পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হবার কারণ


আমরা যখন কোন বস্তুকে উপরে ছুড়ে মারি, পৃথিবীর আকর্ষণে এটি নিচে নেমে আসে। তীর্যভাবে নিক্ষিপ্ত কোন বস্তু একটি নির্দিষ্ট পাল্লা অতিক্রম করে ভূমিতে ফিরে আসে আর পথটি হয় উপবৃত্তাকার। নিক্ষপণ বেগ যত বেশি হবে পাল্লাও তত বেশি হবে। প্রতি সেকেন্ডে ৭৯০০ মিটার বেগে তীর্যকভাবে নিক্ষিপ্ত বস্তু আর পৃথিবীতে থুক্কু ভূমিতে ফিরে আসবে না। এটি হয়ে যাবে কৃত্রিম উপগ্রহ মানে পৃথিবীকে আবর্তন করতে থাকবে। খাড়াভাবে কোন বস্তুকে উপরের দিকে সেকেন্ডে ১১.২ কি.মি. বেগে নিক্ষেপ করলে সেটি  পৃথিবীর মায়া ছেড়ে মহাশূন্যে নিরুদ্দেশ যাত্রো করবে। এই বেগকে মুক্তি বেগ বলে।
এখন তাহলে, পৃথিবীকও কোনভাবে তীর্যকভাবে সূর্য থেকে নিক্ষপ্ত হয়েছিল।
বেশিরভাগ বিজ্ঞানীর মতে,  সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছে একটি বিশাল সোলার ডিস্ক থেকে যার অবস্থান ছিল বর্তমান সৌর জগতের জায়গায়। এই সোলার ডিস্কে বর্তমান সৌর জগতের সব উপাদান ছিল। ডিস্কটি তীব্র গতিতে পাক খাচ্ছিল। একটা সময়ে ডিস্ক থেকে বেশ কিছু খন্ড (অবশ্যই বিশাল বিশাল) বেরিয়ে গেল। খন্ডগুলো সোলার ডিস্কের কেন্দ্র থেকে দূরে সরে গেল। এরকম হয়ে ডিস্কে যা রয়ে গেল তাই হলো এখনকার সূর্য আর খন্ডগুলো বিভিন্ন গ্রহ। খন্ডগুলো ডিস্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল তীব্র গতিতে। কিন্তু সূর্যের মহাকর্ষী বল তাদের সবাইকে চলে যাবার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু কিছু খন্ড এত শক্তিশালীভাবে বের হয়ে গিয়েছিল যে সূর্য তাদেরকে নিজের মহাকর্ষ ক্ষেত্রে ধরে রাখতে পারেনি। বাকীরা উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে পরিক্রমণ শুরু করে গ্রহে পরিণত হয়।